ভারতীয় উপমহাদেশের একটি জমপ্রিয়, সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর খাদ্য হল খিচুড়ি। প্রাচীন যুগ থেকেই আমাদের দেশে খিচুড়ি খাওয়ার চল রয়েছে। গ্রিক দূত সেলুকাস ভারতীয় উপমহাদেশে চালের সঙ্গে ডাল মেশানো জনপ্রিয় খাবারের উল্লেখ করেছেন। মরোক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা কিশরির কথা উল্লেখ করেছেন। এই কিশরি তৈরি হত চাল এবং মুগ ডাল দিয়ে। ১৫ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশে ঘুরতে আসা রাশিয়ান পর্যটক আফনাসিই নিকতিন তাঁর লেখায় খিচুড়ির কথা বর্ণনা করেছেন। চাণক্যের লেখাতেও চাল, ডালের মিশ্রণে তৈরি খিচুড়ির উল্লেখ পাওয়া যায়। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজ পাকশালে খিচুড়ি রান্নার কথা উল্লেখ করেছেন গ্রিক পরিব্রাজক মেগাস্থিনিসও।

আকবরের মন্ত্রী এবং ইতিহাসবিদ আবুল ফজল সম্রাটের রান্নাঘরে বিভিন্ন ধরনের খিচু়ড়ি রান্নার কথা লিখেছেন। আইন-ই-আকবরিতেও বিভিন্ন প্রকার খিচুড়ির প্রস্তুত প্রণালী পাওয়া যায়। সেখানে আকবর এবং বীরবলের খিচুরি রান্নার একটি গল্প উল্লেখ করা হয়েছে। মুঘল রান্নাঘরে জাহাঙ্গিরের প্রিয় বিশেষ ধরনের খিচু়ড়ি তৈরি করা হতো পেস্তা এবং কিশমিশ দিয়ে। সেই খিচুড়িকে জাহাঙ্গির নাম দিয়েছিলেন ‘লাজিজান’। সম্রাট ঔরঙ্গজেবের প্রিয় ‘আলমগিরি খিচড়ি’র কথাও জানা যায়। এই খিচুড়িতে চাল, ডালের সঙ্গে মেশানো হত বিভিন্ন প্রকার মাছ ও ডিম।

রাজকীয় খাবার হিসেবে হায়দরাবাদের নিজামের রান্নাঘরেও খিচুড়ি জনপ্রিয় হয়েছিল। সেই খিচুড়ির ভাঁজে ভাজে থাকতো সুস্বাদু মাংসের কিমা। এদিকে ভিক্টোরিয়ান যুগে দেশে ফেরত ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীদের হাত ধরে তা ইংল্যান্ডে পৌঁছায়। এই খিচুড়ি কালক্রমে হয়ে ওঠে জনপ্রিয় ইংলিশ ব্রেকফাস্ট ‘কেদেগিরি’।

উনিশ শতকের মধ্যভাগে নিম্নবিত্ত মিশরীয়দের মধ্যে কুশারি নামে যে রান্নাটি জনপ্রিয় হয়, তা খিচুরিরই ভিন্নরূপ বলা যেতে পারে । এটি তৈরী হতো তুলশিমালা চাল , ডাল , চানা , ভিনিগার , টমেটো সস , পিঁয়াজ , আদা , রসুন ইত্যাদি উপকরণ দিয়ে। পরে এই রান্নাটি তাদের সৈন্যশিবিরেও স্থান পায়।

বাঙালি বাড়িতে খিচুড়ি রান্না খুব সাধারণ ব্যাপার। বর্ষাকালে তো প্রায়দিনই পাত পেড়ে খিচুড়ি খাওয়া হয়। সঙ্গে বেশ কয়েক রকম ভাজা, আলুরদম, লাবড়া, বাঁধাকপি বা ফুলকপির তরকারি, ইলিশ মাছ ভাজা, ডিমের অমলেট এমনকি শুকনো কষা মাংস দিয়েও খিচুড়ি দারুণ জমে। আজ অবশ্য যে রান্নাটি হবে সেটিও খিচুড়ি, তবে একটু অন্যরকমের। এটি ভুনা খিচুড়ি। সাধারণ খিচুড়ি এবং পোলাও-এর মধ্যবর্তী একটি অতি সুস্বাদু খাবার এটি। (সব ছবি প্রতীকী, সৌজন্যে: istock)

ভুনা খিচুড়ির রেসিপি

ভুনা খিচুড়ির রেসিপি

উপকরণ

  • গোবিন্দভোগ চাল বা আতপ চাল- ১ কাপ
  • সোনা মুগের ডাল- ১ কাপ
  • আদা বাটা- ১ চা চামচ
  • গোটা জিরা- ১/২ চামচ
  • দারচিনি- ১টি কাঠি
  • লবঙ্গ- ৪টি
  • এলাচ- ৪টি
  • তেজপাতা- ২টি
  • জিরা গুঁড়ো- ১/২ চা চামচ
  • হলুদ গুঁড়ো- ১/৪ চা চামচ
  • লঙ্কা গুঁড়ো- ১/৪ চা চামচ
  • কাঁচা লঙ্কা- ৩টি
  • শুকনো লঙ্কা- ২টি
  • হিং- ১/২ চা চামচ
  • নুন- স্বাদমতো
  • চিনি- স্বাদমতো
  • ঘি- প্রয়োজনমতো
  • গরম মশলা গুঁড়ো- ১/৪ চা চামচ
  • কাজু- ১ চা চামচ
  • কিশমিশ- ১ চা চামচ

প্রণালী

  • চাল ভালো করে ধুয়ে জল একেবারে ঝরিয়ে নিন। একটি থালায় জল ঝরানো চাল ছড়িয়ে শুকোতে দিন।
  • সোনা মুগের ডাল প্রথমে শুকনো খোলায় ভেজে নিন। পোড়ে না যেন! ভাজা হয়ে গেলে তা জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। জল ঝরিয়ে চালের মতো ডালও থালায় ছড়িয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এবার কড়াইয়ে ঘি গরম করে তাতে কাজু, কিশমিশ হালকা করে ভেজে নিন।
  • ঘি খেতে না চাইলে সাদা তেলও ব্যবহার করতে পারেন।
  • কাজু কিশমিশ ভাজা হয়ে গেলে তুলে রাখুন।
  • ফের একটু ঘি দিয়ে গরম করুন। তাতে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা এবং জিরা ফোঁড়ান দিন। তারপর একে একে দিন দারচিনি, লবঙ্গ এবং এলাচ।
  • ফোঁড়নের গন্ধ উঠলে তাতে আদাবাটা দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। আদার কাঁচা গন্ধ চলে গেলে তাতে হিং দিয়ে হালকা ভেজে নিন।
  • এতে দিন গোবিন্দভোগ চাল এবং শুকনো খোলায় ভাজা সোনা মুগের ডাল।
  • খুব ভালো করে মেশান। একে একে দিয়ে দিন হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, নুন এবং চিনি। খুব ভালো করে মেশান।
  • এতে কাজু এবং কিশমিশ ভাজা দিয়ে নাড়াচাড়া করুন।
  • এবার সামান্য জল দিন। মনে রাখবেন ভুনা খিচুড়ি কিন্তু পুরোটাই শুকনো হয়। তাই প্রথমেই একগাদা জল দিয়ে ফেলবেন না।
  • অল্প অল্প করে জল দিন। কাঁচা লঙ্কা চিরে তাতে দিয়ে পাত্রটি ঢাকা দিয়ে দিন।
  • মাঝে মাঝে ঢাকা তুলে খুন্তি দিয়ে নাড়াচাড়া করে নেবেন। প্রয়োজন মতো জল দেবেন। এক কাপ চাল এবং এক কাপ ডালের জন্য সাড়ে তিন থেকে চার কাপ জলের প্রয়োজন হবে।
  • মিনিট দশেক পর ঢাকনা খুলে তাতে গরম মশলা গুঁড়ো দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। উপরে ঘি ছড়িয়ে দিন।
  • এরপর পাঁচ মিনিট কড়াই ঢাকা দিয়ে রেখে দিন। তরপর গরম গরম পরিবেশন করুন।

TRAVONEWS BANGLA সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে দৈনিক টাটকা খবর, খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে ভরসাযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন https://bangla.travonews.in ওয়েবসাইটে

-Travo News

for More

Like, Subscribe and Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights