পুরাণ মতে, যশোদা বালক কৃষ্ণকে আট প্রহর খেতে দিতেন। কিন্তু একবার ইন্দ্রের রোষে পড়ে মহাপ্রলয়ের সৃষ্টি হয়। সেই সময় বিশ্ববাসীকে রক্ষা করতে নিজের কনিষ্ঠ আঙুলে গোবর্ধন পাহাড় তুলে নিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। সাতদিন ওইভাবেই তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। খাবার এবং জল কোনও কিছুই মুখে দেননি। প্রলয় বন্ধ হওয়ার পর তিনি সেই পাহাড় নামিয়ে রাখেন। এদিকে যে ছেলে দিনে আটবার খাবার খেত তাকে টানা সাতদিন অনাহারে থাকতে দেখে কেঁদে ওঠে মা যশোদার মন। তখন ব্রজবাসী-সহ যশোদা সাতদিন ও আট প্রহরের হিসেবে কৃষ্ণের জন্য ৫৬টি পদ পরিবেশন করেছিলেন। আর সেই থেকেই নারায়ণের ছাপ্পান্ন ভোগ চলে আসছে।

পুরীর মন্দিরে নিত্যদিন জগন্নাথ দেবকেও ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদন করা হয়। জগন্নাথের ভোগে মূলত দুই ধরনের খাবার দেওয়া হয়। একদিকে থাকে ভাত, ডাল, তরকারি, খিচুড়ি জাতীয় রান্না করা খাবার। আর থাকে খাজা, গজা, খই, মুড়কি জাতীয় শুকনো খাবার। রান্নার প্রক্রিয়াও বেশ মজার। মন্দিরের রান্নাঘরে একটি পাত্রের উপরে আরেকটি পাত্র এমন করে মোট ৭টি পাত্র আগুনে বসানো হয় রান্নার জন্য। এই পদ্ধতিতে যে পাত্রটি সবচেয়ে উপরে বসানো থাকে তার রান্না হয় সবার আগে। তার নীচের হাড়ির রান্না হয় তারপরে। এভাবে সবচেয়ে দেরিতে হয় সবচেয়ে নীচের পাত্রের রান্না। কথিত আছে, জগন্নাথদেবের আশীর্বাদেই নাকি এমনটা হয়।

মূলত ফুটন্ত জলে সবজি এবং মশলা দিয়ে চলতে থাকে মহাপ্রভুর রান্না। মশলা বলতে শুধুমাত্র নুন এবং হলুদের ব্যবহার। মহাপ্রসাদে পেঁপে, আলু, টমেটো, কাঁচা লঙ্কা, গাজর জাতীয় সবজি ব্যবহার করা হয় না। মোটকথা প্রভুর রান্নায় বিদেশি সবজি ব্যবহারের নিয়ম নেই। বেলা ১২টা থেকে ১টার মধ্যে জগন্নাথ দেবকে যে ভোগ দেওয়া হয় তাকে বলা হয় মধ্যাহ্ন ভোগ। এই ভোগে থাকে ৪০টি পদ। আর সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল ‘ডালমা’। ডাল এবং সবজি দিয়ে এই ভোগ তৈরি করা হয়। রান্না হয় জলে সিদ্ধ করে। রান্নায় কোনও তেল ব্যবহৃত হয় না। মহাপ্রসাদ ছাড়াও এই ডালমা ওড়িশা প্রদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার। ডালমা অনেকটি বাঙালিদের সবজি ডালের মতো। খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। এবং সম্পূর্ণ নিরামিষ।

ডালমার রেসিপি

উপকরণ
  • মুগ ডাল- দেড় কাপ
  • পটল- ২-৩টি
  • মিষ্টি কুমড়ো- ১ বাটি (ডুমো করে কাটা)
  • কাঁচা কলা- ১টি।
  • ঝিঙে- ১টি
  • মূলা- ২টি
  • আলু- ১ কাপ (ডুমো করে কাটা)
  • মুখী কচু বা গাঠি কচু- ১ কাপ (দুই টুকরো করে কাটা)
  • আদা বাটা – ২-৩ চামচ
  • নুন, হলুদ, চিনি- স্বাদ মতো
  • ঘি- ৪-৫ টেবিল চামচ
  • হিং- ১ চামচ
  • শুকনো লঙ্কা- ৪-৫টা
  • তেজপাতা- ২টো
  • পাঁচফোড়ন- ১ চা চামচ
  • নারকোল কোরা- ২ টেবিল চামচ

স্পেশাল ডালমা মশলার জন্য প্রয়োজন পড়বে…

  • গোটা জিরা- ২ চা চামচ
  • গোটা ধনে- ১ চা চামচ
  • গোলমরিচ- ১ চা চামচ
  • মেথি দানা- ১/২ চা চামচ
  • লবঙ্গ- ১/২ চা চামচ
  • দারচিনি- ৩ ইঞ্চ
  • বড় এলাচ- ১টি
  • শুকনো লঙ্কা- ৮-১০টি
  • মৌরি – ১ চা চামচ
  • তেজপাতা – ১টি

প্রণালী

  • মুগ ডাল ভালো করে ধুয়ে এক ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখুন।
  • আগে স্পেশাল ডালমা মশলা বানিয়ে নিন।
  • এক্ষেত্রে গোটা জিরা, গোটা ধনে, গোলমরিচ, মেথি দানা, লবঙ্গ, দারচিনি, বড় এলাচ, শুকনো লঙ্কা, মৌরি এবং তেজপাতা শুকনো খোলায় ভেজে নিন। মশলা সামান্য ঠান্ডা করে মিক্সিতে গুঁড়িয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেল ডালমা স্পেশাল মশলা।
  • পটলের খোসা চেঁছে দুই টুকরো করে কেটে নিন। একই ভাবে ঝিঙে চেঁছে নিন। টুকরো করে কেটে নিন।
  • কুমড়ো, আলু, কাঁচাকলা, মূলো এবং, কচু ডুমো করে কেটে নিন।
  • একটি বড় পাত্রে ডাল, মূলো, কাঁচা কলা নিয়ে সিদ্ধ চাপিয়ে দিন। ডাল আধা সিদ্ধ হয়ে এলে তাতে বাকি সমস্ত সবজি এবং নুন দিয়ে সিদ্ধ করে নিন।
  • এবার অন্য একটি ফ্রাইং প্যান গরম করে তাতে ঘি দিয়ে শুকনো লঙ্কা, পাঁচ ফোঁড়ন, তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে একটু নেড়ে তাতে হলুদ, আদা বাটা, হিং দিয়ে তড়কা বানিয়ে নিন। সিদ্ধ ডাল সবজিতে তড়কা দিয়ে ফুটিয়ে নিন।
  • এতে দিয়ে দিন ভাজা মশলা। সমস্ত উপকরণ ভালো মতো মিশিয়ে নিয়ে সামান্য ফুটিয়ে নিন। স্বাদমতো চিনি এবং নারকেল কোরা দিয়ে ফের নাড়াচাড়া করে নিন। উপরে আরও খানিকটা ঘি ছড়িয়ে দিন।
  • ডাল বেশ ঘন হবে। ভাত, রুটি পরোটা যে কোনও কিছু দিয়েই ডালমা দারুণ খেতে লাগে। ডালমা জগন্নাথ দেবের একটি প্রিয় পদ।

TRAVONEWS BANGLA সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে দৈনিক টাটকা খবর, খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে ভরসাযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন TRAVONEWS.IN বাংলার ওয়েবসাইটে

-Travo News

for More

Like, Subscribe and Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights