তিন চামচ ভাত, বেশ খানিকটা ডাল, কম তেলে সবজি আর চিকেন স্টু। শরীরটাকে সুস্থ রাখতে এর চেয়ে বেশি খাওয়া অনেকেরই আজকাল পোশায় না। সারাদিন ধরে লড়াই চালিয়ে যেতে গেলে কম খেতে হবে। সারা সপ্তাহ এই ডায়েট মেনে চলে একটা দিন তো ‘চিট-ডে’ থাকবেই। সেই দিন একটু আহারে বাহারে না কাটালে জীবনটাই বৃথা বলে মনে হয়। আসলে এক কালের খাদ্যরসিক বাঙালি আজ স্বাস্থ্য সচেতন। সেকালের মতো তিনশোটা রসগোল্লা কিংবা দুই সের দই খেয়ে হদম করার শক্তি আজকাল কারও নেই। অথচ এমন একটা দিন ছিল যখন অনুষ্ঠান বাড়িতে নামকরা খাইয়েরা না গেলে বাড়ির কর্তামশাইয়ের মান থাকত না।

নামকরা খাইয়েদের লিস্টিতে যেমন ছিল আম আদমি, তেমনই ছিলেন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। রাজা রামমোহন রায়, বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়, অর্ধেন্দুকুমার মুখোপাধ্যায় কিংবা অমিয়কুমার সেনেরা ছিলেন সেকালের ’খাদ্য-গুণীজন’। শেষ ব্যক্তিটির খাদ্যপ্রিয়তার কথা জানা যায় সুকুমার সেনের লেখা থেকে। তিনি তাঁর ‘দিনের পরে দিন যে গেল’র ‘আর্টস্ ফ্যাকাল্টির টোল’-এ লিখেছিলেন যে, একবার এক অনুষ্ঠানবাড়িতে ঘি-এ ভাজা ময়দার লুচি হয়েছিল। সঙ্গে ছিল মাংসের কালিয়া, আলুর দম, চিংড়ির কাটলেট, ছোলার ডাল, বেগুন বা পটোল ভাজা, সুস্বাদু চাটনি, উৎকৃষ্ট দই, ভীম নাগ বা পুঁটিরাম কিংবা দ্বারিকের কাঁচাগোল্লা এবং নবীনের স্পঞ্জ রসগোল্লা। সেই প্রীতিভোজে সমস্ত খাবার খাওয়ার পরেও অমিয়বাবু ‘অতিরিক্ত চিংড়ির কাটলেট খেয়েছিলেন ডজন তিনেকের বেশি।’ ভাবা যায়?

যাক অত আর ভাবতে হবে না। আমাদের ওরকম ক্ষমতা হয়তো কোনোদিনই হবেও না। সে যা হোক, চিংড়ির কথা যখন উঠলই তখন একটি অনন্য পদের নাম করা যাক। চিংড়ির ঝাল ফিরোজি। সেকালে ঠাকুরবাড়ি থেকে শুরু করে অনেক বনেদি বাড়িতেই এই রান্নার চল ছিল। একেক বাড়িতে অবশ্য রান্নার উপকরণ বা প্রণালীর সামান্য হেরফের হত। আজ রইল সেই চিংড়ির ঝাল ফিরোজি রান্নার কৌশল। ছোটো বা কুচো চিংড়িতে ঝাল ফিরোজি ঠিক জমে না। এর জন্য বাগদা বা গলদা চিংড়ি হলেই বেশি ভালো হয়। সঙ্গে সাদা ভাত বা পোলাও।

চিংড়ির ঝাল ফিরোজির রেসিপি

চিংড়ির ঝাল ফিরোজির রেসিপি

উপকরণ

  • বাগদা চিংড়ি- ৮টি
  • পেঁয়াজ- ১টি
  • আদা রসুন বাটা- ১ টেবিল চামচ
  • টোম্যাটো- ১টি
  • লেবুর রস- দেড় চামচ
  • লঙ্কা- ৩টি
  • কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো – ১ চা চামচ
  • হলুদ- ১ চা চামচ
  • লঙ্কা গুঁড়ো- ১ চা চামচ
  • সাদা তেল- প্রয়োজনমতো
  • নুন- স্বাদ অনুসারে

স্পেশাল মশলার জন্য প্রয়োজন পড়বে…

  • এলাচ- প্রয়োজনমতো
  • দারচিনি- দেড়টি কাঠি
  • গোলমরিচ- ৭-৮টি
  • লবঙ্গ- ৪টি
  • শুকনো লঙ্কা- ২টি
  • জিরা- ১ চা চামচ
  • কসৌরি মেথি- ১ চাচামচ

প্রণালী

  • বাগদা চিংড়ি ভালো করে ধুয়ে নিন।
  • জল ঝরিয়ে নুন, হলুদ, সামান্য লঙ্কার গুঁড়ো এবং লেবুর রস দিয়ে ভালো করে ম্যারিনেট করে রাখুন। মোটামুটি পনেরো মিনিট রাখলেই হবে।
  • প্রথমে স্পেশাল মশলাটি বানিয়ে নিন। শুকনো খোলায় এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, শুকনো লঙ্কা, জিরা দিয়ে ভেজে নিন।
  • মশলার সুগন্ধ উঠলে তাতে কসৌরি মেথি দিয়ে দুই চারবার নাড়াচাড়া করেই নামিয়ে নিন। মশলা যেন পুড়ে না যায়।
  • ভাজা মশলা মিহি করে গুঁড়িয়ে নিন।
  • পেঁয়াজ মিহি করে কুচিয়ে নিন। টোম্যাটো ছোটো টুকরো করে কেটে নিন।
  • কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে গরম মশলা ফোঁড়ন দিন।
  • মশলার সুগন্ধ উঠলে তাতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে নাড়াচাড়া করুন।
  • পেঁয়াজ ভাজা হলে তাতে টোম্যাটো এবং আদা-রসুন বাটা দিয়ে কষাতে থাকুন।
  • এবার এতে ম্যারিনেট করা চিংড়ি দিয়ে দিন। নাড়াচাড়া করতে থাকুন।
  • প্রয়োজনে সামান্য জল ছিটিয়ে দিন।
  • কড়াই ঢেকে দিয়ে চিংড়ি সিদ্ধ করতে দিন।
  • চিংড়ি সিদ্ধ হলে এবার তাতে একে একে দিয়ে দিন কাঁচা লঙ্কা, নুন, হলুদ, লঙ্কার গুঁড়ো এবং কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো।
  • ফের কষাতে থাকুন। ফের সামান্য জল দিন। যাতে মশলা পুড়ে না যায়।
  • অল্প চিনি দিয়ে মিশিয়ে নিন।
  • মশলার মধ্যেই চিংড়ি সিদ্ধ হবে। রান্নার তেল ছাড়তে শুরু করলে তাতে স্পেশাল মশলা দিয়ে ফের কষান।
  • এবার এতে সামান্য জল দিয়ে ফুটিয়ে নিন।
  • সবশেষে সামান্য স্পেশাল মশলা ফের উপরে ছড়িয়ে দিন।
  • রান্না হয়ে গেলে মিনিট পনেরো ঢাকা দিয়ে রাখুন।
  • ভাত কিংবা পোলাও যে কোনও কিছু দিয়েই এটি খাওয়া যায়। স্বাদ অনবদ্য।

TRAVONEWS BANGLA সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে দৈনিক টাটকা খবর, খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে ভরসাযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন https://bangla.travonews.in ওয়েবসাইটে

-Travo News

for More

Like, Subscribe and Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights